<p>বাংলা সাহিত্যে <strong>বিহারীলাল চক্রবর্তীকে</strong> ‘ভোরের পাখি’ বলা হয়। এর পেছনে খুব সহজ একটি কারণ রয়েছে:</p>
<ul>
<li>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যপ্রতিভা বিকাশের পেছনে বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রভাব ছিল অপরিসীম।</li>
<li>তিনি বাংলা গীতি কবিতার ধারায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন।</li>
<li>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই তাকে ‘ভোরের পাখি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন, কারণ বাংলা কবিতার ভোরের আলো বা নতুন ধারার উন্মেষ তার হাত ধরেই ঘটেছিল।</li>
</ul>
<p>সহজ কথায়, আধুনিক বাংলা গীতি কবিতার ভোরের সূচনাকারী হিসেবেই তিনি এই উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।</p>
<p>বাংলা সাহিত্যে <strong>বিহারীলাল চক্রবর্তী</strong>-কে ‘ভোরের পাখি’ বলা হয়। এই উপাধিটি দেওয়ার পেছনে একটি চমৎকার কারণ রয়েছে:</p>
<ul>
<li>উনিশ শতকের বাংলা কবিতায় যখন গীতি কবিতার ধারা খুব একটা শক্তিশালী ছিল না, তখন বিহারীলাল তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন সুর নিয়ে আসেন।</li>
<li>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই তাঁকে ‘ভোরের পাখি’ বলে অভিহিত করেছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন বাংলা গীতি কবিতার ভোরের প্রথম বা অগ্রগামী কবি।</li>
<li>তাঁর কবিতার সহজ-সরল প্রকাশভঙ্গি এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।</li>
</ul>
<p>সহজ কথায়, বাংলা গীতি কবিতার ভোরের আলো ফুটিয়েছিলেন বলেই তিনি আমাদের কাছে ‘ভোরের পাখি’ হিসেবে পরিচিত।</p>
<p>বাংলা সাহিত্যে সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার জনক হলেন <strong>মাইকেল মধুসূদন দত্ত</strong>। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:</p>
<ul>
<li>মধুসূদন দত্ত ইতালীয় কবি পেত্রার্কের সনেট রীতি অনুসরণ করে বাংলায় সনেট প্রবর্তন করেন।</li>
<li>তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ <strong>'চতুর্দশপদী কবিতাবলী'</strong> হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন।</li>
<li>সনেটের গঠনশৈলী হলো মোট <strong>১৪টি চরণ</strong> এবং প্রতিটি চরণে <strong>১৪টি মাত্রা</strong> থাকে, যা তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম সফলভাবে প্রয়োগ করেন।</li>
</ul>
<p>তাই বাংলা সাহিত্যে সনেটের কথা এলেই সবার আগে মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাম আসে।</p>
<p>বাংলা সাহিত্যে ‘সনেট’ রচনার প্রবর্তক হলেন <strong>মাইকেল মধুসূদন দত্ত</strong>। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:</p>
<ul>
<li>মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইতালীয় কবি পেত্রার্কের সনেট শৈলীকে বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থকভাবে নিয়ে আসেন।</li>
<li>তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ <strong>‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’</strong> মূলত সনেটেরই একটি সংকলন।</li>
<li>সনেটের গঠনশৈলী, অর্থাৎ <strong>১৪টি চরণ</strong> এবং নির্দিষ্ট অন্ত্যমিল বা ছন্দের যে নিয়ম, তা তিনি বাংলা কবিতায় প্রথম প্রবর্তন করেন।</li>
</ul>
<p>তাই বাংলা সনেটের জনক হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামই সবার আগে আসে।</p>
<p>বাংলা সাহিত্যে গদ্যের সূচনা হয় <strong>উনিশ শতকে</strong>। এর পেছনে মূল কারণ হলো ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এবং শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের কার্যক্রম।</p>
<p>বিষয়টি সহজভাবে মনে রাখার উপায়:</p>
<ul>
<li><strong>ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:</strong> ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই বাংলা গদ্যের চর্চা ও বিকাশে এটি প্রধান ভূমিকা পালন করে।</li>
<li><strong>পাঠ্যপুস্তক রচনা:</strong> এই সময়েই পাঠ্যপুস্তক তৈরির প্রয়োজনে বাংলা গদ্যের একটি সুশৃঙ্খল কাঠামো তৈরি হয়।</li>
<li><strong>আধুনিকতার ছোঁয়া:</strong> রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং মৃত্যুঞ্জয় তর্কালঙ্কারের মতো মনীষীদের হাত ধরে বাংলা গদ্য পূর্ণতা পায়, যা মূলত <strong>উনিশ শতকের</strong> ঘটনা।</li>
</ul>
<p>তাই বাংলা গদ্যের প্রকৃত বিকাশ ও সূচনা বলতে আমরা এই <strong>উনিশ শতককেই</strong> বুঝি।</p>
৫১৮১
বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে কোন পত্রিকার অবদান বেশি?
<p>বাংলা সাহিত্যে <strong>সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে</strong> ‘ছন্দের জাদুকর’ বলা হয়। এর কারণ হলো:</p>
<ul>
<li>তিনি বাংলা কবিতার ছন্দে এক অসাধারণ কারুকার্য ও বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছিলেন।</li>
<li>শব্দ চয়ন এবং ছন্দের দোলা তৈরিতে তার দক্ষতা ছিল অতুলনীয়, যা বাংলা কবিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।</li>
<li>তার ছন্দের জাদুকরী ক্ষমতার কারণেই তাকে এই বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।</li>
</ul>
<p>বাংলা সাহিত্যে <strong>সুকান্ত ভট্টাচার্য</strong>-কে 'কিশোর কবি' বলা হয়। এর কারণ হলো খুব অল্প বয়সেই তিনি বাংলা কবিতায় এক অনন্য ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন।</p>
<ul>
<li>সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।</li>
<li>তার লেখায় অকালপক্কতা এবং দ্রোহের যে বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়, তা তাকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক চিরসবুজ ও কিশোর কবির মর্যাদা দিয়েছে।</li>
<li>তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'ছাড়পত্র' এবং 'ঘুম নেই' বাংলা সাহিত্যে তাকে অমর করে রেখেছে।</li>
</ul>
<p>সহজ কথায়, তারুণ্যের দীপ্ত চেতনা এবং অকাল প্রয়াত হওয়ার কারণেই তিনি বাংলা সাহিত্যে <strong>কিশোর কবি</strong> হিসেবে পরিচিত।</p>
<p>বাংলা সাহিত্যে গদ্যের জনক হিসেবে <strong>ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর</strong>-কে গণ্য করা হয়। এর কারণ হলো, তিনি বাংলা গদ্যকে প্রথমবার একটি সুশৃঙ্খল, মার্জিত এবং শৈল্পিক রূপ দিয়েছিলেন।</p>
<ul>
<li><strong>ভাষার বিন্যাস:</strong> বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য ছিল বেশ অগোছালো। তিনি যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার এবং বাক্যের গঠনশৈলী ঠিক করে গদ্যকে পড়ার উপযোগী করে তোলেন।</li>
<li><strong>সহজবোধ্যতা:</strong> তিনি সংস্কৃত পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছিলেন, যা বাংলা গদ্যের আধুনিক যুগের সূচনা করে।</li>
<li><strong>মৌলিক অবদান:</strong> তার লেখা 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' বা 'শকুন্তলা'-র মতো বইগুলো বাংলা গদ্যের ভিত্তি মজবুত করেছে, তাই তাকেই বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।</li>
</ul>
৫১৮৫
বাংলা সাহিত্যে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটের প্রবর্তক কে?
<p>বাংলা সাহিত্যে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটের প্রবর্তক হলেন <strong>মাইকেল মধুসূদন দত্ত</strong>। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:</p>
<ul>
<li>মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইতালীয় কবি পেত্রার্কের সনেট রীতির অনুকরণে বাংলা সাহিত্যে সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রবর্তন করেন।</li>
<li>তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ <strong>'চতুর্দশপদী কবিতাবলী'</strong> বাংলা সাহিত্যে এই ধারার প্রথম সার্থক প্রয়োগ।</li>
<li>সনেটের গঠনশৈলী হলো <strong>১৪টি চরণ</strong> এবং প্রতিটি চরণের মাত্রা সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে, যা তিনি বাংলা কাব্যে প্রথম সফলভাবে নিয়ে আসেন।</li>
</ul>
<p>সহজ কথায়, বাংলা কবিতায় নতুন এক শিল্পরূপ যোগ করার কৃতিত্ব পুরোপুরি তাঁরই।</p>
<p>বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত প্রমথ চৌধুরী। তার ছদ্মনাম ছিল <strong>বীরবল</strong>। তিনি বাংলা গদ্যে চলিত ভাষারীতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে যে প্রবন্ধ সংকলনটি প্রকাশ করেন, সেটিই হলো <strong>বীরবলের হালখাতা</strong>।</p>
<p>সহজ কথায় মনে রাখার উপায়:</p>
<ul>
<li><strong>প্রমথ চৌধুরী</strong> ছিলেন বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রধান রূপকার।</li>
<li>তার সম্পাদিত বিখ্যাত পত্রিকা 'সবুজপত্র'-এর আদর্শ ও চলিত ভাষারীতিকে ভিত্তি করেই এই গ্রন্থটি রচিত হয়েছে।</li>
<li>তাই বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ হিসেবে <strong>বীরবলের হালখাতা</strong>-কে গণ্য করা হয়।</li>
</ul>
<p>বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক হিসেবে <strong>প্রমথ চৌধুরী</strong> অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বাংলা গদ্যকে সাধু ভাষার কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত করে মুখের ভাষার কাছাকাছি নিয়ে আসেন।</p>
<ul>
<li><strong>সবুজপত্র পত্রিকা:</strong> ১৯১৪ সালে প্রকাশিত এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি চলিত রীতির সপক্ষে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলেন।</li>
<li><strong>ভাষার সহজীকরণ:</strong> তিনি মনে করতেন, ভাষা মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম, তাই এটি হওয়া উচিত সহজ ও সাবলীল।</li>
<li><strong>অবদান:</strong> তার বলিষ্ঠ লেখনীর কারণেই বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় এবং আধুনিক গদ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়।</li>
</ul>
<p>সহজ কথায়, বাংলা গদ্যকে আভিজাত্য ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় চলিত রীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার মূল কারিগর ছিলেন তিনিই।</p>
MCQ পরীক্ষা সেটিংস
বাংলা
eProstuti
সহজ ও দ্রুত ক্লাস করতে অ্যাপটি ইনস্টল করুন
iPhone / iPad এ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Safari ব্রাউজারের নিচে থাকা Share ( ) বাটনে চাপ দিন।
২নিচের দিকে স্ক্রোল করে 'Add to Home Screen' ( ) নির্বাচন করুন।
৩উপরে ডানে থাকা 'Add' বাটনে ট্যাপ করুন।
Android এ অ্যাপ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Chrome ব্রাউজারের উপরে ডানে থাকা থ্রি-ডট ( ) মেনু চাপুন।
২তালিকায় 'Install app' বা 'Add to Home screen' ( ) এ ট্যাপ করুন।
ডাউনলোড সম্পন্ন হলে ফাইলটি ওপেন করে Install চাপুন।
যদি "Install unknown apps" বা "Unknown sources" অনুমতি চায়, তাহলে সেটি Allow করে আবার ইনস্টল করুন।
ইনস্টল শেষ হলে অ্যাপটি খুলে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
অ্যাপের সুবিধা:
সকল লাইভ ক্লাস
রেকর্ডেড ক্লাস
অনলাইন পরীক্ষা
ই-বুক ও নোটিশ
সবকিছু এক জায়গা থেকেই সহজে ব্যবহার করুন!
ব্রাউজারে খুলুন
⚠️ মনে হচ্ছে আপনি এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুক বা অন্য কোনো অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজার থেকে খুলেছেন।
ভালোভাবে কাজ করার জন্য দয়া করে এটি আপনার মূল ব্রাউজারে (যেমন Chrome) খুলুন।
👉 উপরে থাকা ⋮ বা ••• বাটনে চাপ দিন → তারপর “Open in Browser” সিলেক্ট করুন।