তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে বেগম রোকেয়া সরাসরি নিজের নামে সব লেখা প্রকাশ করতে পারতেন না। তাঁর অনেক রচনা 'মিসেস আর. এস. হোসেন' নামে প্রকাশিত হতো। এই তথ্যটি তাঁর সংগ্রামী জীবনের এক বিশেষ দিক ফুটিয়ে তোলে, যা তোমাদের পরীক্ষার জন্য জরুরি।
৫৭২
বেগম রোকেয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ‘অবরোধবাসিনী’ প্রকাশিত হয়- [ঢাবি-গ ৯৪-৯৫]
বেগম রোকেয়ার ‘অবরোধবাসিনী’ তাঁর একটি অসামান্য রচনা যেখানে তিনি অবরোধ প্রথার করুণ ও হাস্যকর চিত্রগুলো তুলে ধরেছেন। গ্রন্থটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়। নারীদের ওপর আরোপিত অন্যায্য বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে এটি এক শক্তিশালী প্রতিবাদী দলিল।
‘গৃহ’ প্রবন্ধে জমিলা তাঁর বংশের কঠোর পর্দানশীনতাকে একটি ঐতিহ্য ও বংশীয় গৌরব হিসেবে মনে করতেন। তিনি বাইরের পৃথিবীর আলো-বাতাস থেকে বঞ্চিত থাকাকেই বরং আভিজাত্য হিসেবে দেখতেন, যা তৎকালীন সমাজের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন দিককে তুলে ধরে।
৫৭৪
‘ইনি আমার আত্মীয় কন্যা’ কার সম্পর্কে জমিলা এ উক্তিটি করেছে?
জমিলা তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীকে অর্থাৎ ভাবিকে ‘আত্মীয় কন্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মূলত অন্দরমহলের নারীদের পারিবারিক সম্পর্কের বিন্যাস এবং একে অপরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের এক বিশেষ দিক এখানে প্রাবন্ধিক অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
কলিমের স্ত্রী সব সময় এক বিষণ্ণ ও চিন্তাক্লিষ্ট অবস্থায় থাকতেন। লেখিকা তাঁকে কখনোই প্রফুল্ল বা আনন্দিত দেখেননি। এই বিষয়টি কলিমের স্ত্রীর মানসিক বন্দিদশা ও সাংসারিক একঘেয়েমির করুণ ছবি ফুটিয়ে তোলে, যা পাঠকদের মনে এক গভীর রেখাপাত করে।
‘গৃহ’ প্রবন্ধে রমাসুন্দরী চরিত্রটি একজন বিধবা নারী হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। তাঁর জীবনের লড়াই ও অবস্থান দেখানোর মাধ্যমে লেখিকা তৎকালীন হিন্দু সমাজ ও পরিবারে বিধবা নারীদের যে অসহায়ত্ব ও অবজ্ঞার শিকার হতে হতো, তার একটি বাস্তব চিত্র দিয়েছেন।
নারীরা ঘরের ভেতর কী অবস্থায় আছে বা তারা কতটা অবহেলার শিকার, তা যদি পুরুষেরা জানতে পারেন, তবে তাদের মিথ্যা পুরুষত্ব ও আভিজাত্যের স্বরূপ উন্মোচিত হবে। এতে তারা অত্যন্ত অপমানিত বোধ করবেন বলেই লেখিকা এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যটি করেছেন।
৫৭৮
‘গৃহ’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক একবার কোন স্থানের নিকটবর্তী শহরে বেড়াতে গিয়েছিলেন?
বেগম রোকেয়া তাঁর বর্ণনায় জামালপুর শহরের নিকটবর্তী এক স্থানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এই সফরের মাধ্যমেই তিনি বিভিন্ন পরিবারের অন্দরমহলের চিত্র দেখার সুযোগ পান এবং নারীদের করুণ জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন যা তিনি প্রবন্ধে লিখেছেন।
৫৭৯
‘গৃহ’ প্রবন্ধের লেখিকার কোন বাড়ির স্ত্রীলোকদের দেখতে আগ্রহ হয়?
শরাফত উকিলের বাড়ির নারীরা অত্যন্ত কঠোর পর্দার আড়ালে বাস করতেন। লেখিকা সেই পরিবারের অন্দরমহল এবং সেখানকার নারীদের জীবনযাত্রা দেখার জন্য প্রবল কৌতূহল ও আগ্রহ বোধ করেছিলেন, যা প্রবন্ধের কাহিনীতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
৫৮০
শরাফত উকিলের বাড়ির মহিলারা অতিশয় মিষ্টভাষিণী হলেও তারা ছিলেন-
শরাফত উকিলের বাড়ির মহিলারা দেখতে সুন্দর ও কথা বলতে পটু হলেও তাদের বাইরের জগত সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। তারা কুয়োর ব্যাঙের মতো ক্ষুদ্র গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল, তাই লেখিকা তাদের ‘কূপমণ্ডূক’ বলে অভিহিত করে তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
শরাফত উকিলের বাড়িতে লেখিকা যখন যান, তখন তাঁকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করা হয়েছিল। সেখানকার আতিথেয়তা ছিল যথাযথ ও সুশৃঙ্খল। এই ঘটনাটি দেখায় যে সমাজপতিদের বাড়িতে বাহ্যিক চাকচিক্য ও সৌজন্য থাকলেও নারীরা সেখানে ছিল অন্তঃপুরবাসিনী।
শরাফত উকিলের পত্নীর নাম ছিল আমেনা। তিনি অত্যন্ত মিষ্টভাষিণী ছিলেন এবং প্রবন্ধের কাহিনীতে তাঁর মাধ্যমে আমরা তৎকালীন ধনী পরিবারের নারীদের গৃহবন্দি জীবনের এক নিপুণ চিত্র খুঁজে পাই, যা পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দিয়ে যায়।
খদিজা নামের চরিত্রটিই জমিলাকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তিনি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তাদের জীবনযাত্রা দেখে আসেন। এই কথোপকথনের মাধ্যমেই লেখিকা অন্দরমহলের নারীদের একে অপরের প্রতি মনোভাব ও সম্পর্কের দিকগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।
জমিলা তাঁর জীবনে কখনো যানবাহনে চড়েননি কারণ তাঁর বংশে নারীদের বাড়ির বাইরে পা রাখার অনুমতি ছিল না। এই তথ্যটি তৎকালীন সমাজের কঠোর পর্দা প্রথার এক চরম ও অসহনীয় উদাহরণ হিসেবে লেখিকা ‘গৃহ’ প্রবন্ধে অত্যন্ত সফলভাবে উপস্থাপন করেছেন।
৫৮৫
জমিলা লেখিকাকে নিজের বাড়ি দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল কেন?
জমিলা চেয়েছেন লেখিকা যেন দেখেন এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দূরত্ব কতটা কম, যা নারীদের চলাচলের জন্য কোনো বড় বাধা হওয়ার কথা ছিল না। তা সত্ত্বেও তারা ঘর থেকে বের হতে পারত না। এই অযৌক্তিক বিধিনিষেধ বোঝাতেই তিনি লেখিকাকে নিয়ে গিয়েছিলেন।
MCQ পরীক্ষা সেটিংস
বাংলা ১ম পত্র
eProstuti
সহজ ও দ্রুত ক্লাস করতে অ্যাপটি ইনস্টল করুন
iPhone / iPad এ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Safari ব্রাউজারের নিচে থাকা Share ( ) বাটনে চাপ দিন।
২নিচের দিকে স্ক্রোল করে 'Add to Home Screen' ( ) নির্বাচন করুন।
৩উপরে ডানে থাকা 'Add' বাটনে ট্যাপ করুন।
Android এ অ্যাপ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Chrome ব্রাউজারের উপরে ডানে থাকা থ্রি-ডট ( ) মেনু চাপুন।
২তালিকায় 'Install app' বা 'Add to Home screen' ( ) এ ট্যাপ করুন।
ডাউনলোড সম্পন্ন হলে ফাইলটি ওপেন করে Install চাপুন।
যদি "Install unknown apps" বা "Unknown sources" অনুমতি চায়, তাহলে সেটি Allow করে আবার ইনস্টল করুন।
ইনস্টল শেষ হলে অ্যাপটি খুলে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
অ্যাপের সুবিধা:
সকল লাইভ ক্লাস
রেকর্ডেড ক্লাস
অনলাইন পরীক্ষা
ই-বুক ও নোটিশ
সবকিছু এক জায়গা থেকেই সহজে ব্যবহার করুন!
ব্রাউজারে খুলুন
⚠️ মনে হচ্ছে আপনি এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুক বা অন্য কোনো অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজার থেকে খুলেছেন।
ভালোভাবে কাজ করার জন্য দয়া করে এটি আপনার মূল ব্রাউজারে (যেমন Chrome) খুলুন।
👉 উপরে থাকা ⋮ বা ••• বাটনে চাপ দিন → তারপর “Open in Browser” সিলেক্ট করুন।