গল্পের শুরুতেই লেখক আমাদের স্পষ্টভাবে জানান যে বুড়ি হলো মৃত জমির করাতির স্ত্রী। গ্রামের মানুষের কাছে সে ছিল এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধা, যার অকৃত্রিম স্নেহের টানেই লেখক বারবার সেই অজপাড়াগাঁয়ে ফিরে এসেছিলেন এবং মানবিক সম্পর্কের এক নতুন রূপ খুঁজে পান।
৬১৭
'দ্যাও বাবা- তুমিও দ্যাও' 'আহ্বান' গল্পের এ উক্তিটি কার?
লেখক যখন বৃদ্ধাকে কিছু পয়সা দিতে চাইলেন, তখন পাশের বাড়ির শুকুর মিয়া এই চমৎকার উক্তিটি করে। গ্রামীণ সহজ-সরল সম্পর্কের মাঝেও যে এক ধরনের গভীর মমত্ববোধ ও অধিকারবোধ কাজ করে, তারই এক চমৎকার ও জীবন্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই উক্তির মাধ্যমে।
বৃদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে গ্রামের মাকাল গাছ তলায় পরম মমতায় কবর দেওয়া হয়। গল্পের শেষ দৃশ্যে এই বিষাদময় স্থানটির নিপুণ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা এক অত্যন্ত মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক আবহের সৃষ্টি করে প্রতিটি সংবেদনশীল পাঠকের হৃদয়ে এক গভীর রেখাপাত করে।
হাজরা ব্যাটার বউ ছিল বৃদ্ধার প্রতিবেশী। বৃদ্ধার কোনো রক্ত সম্পর্কের আপনজন না থাকায় সে-ই মূলত তাকে সবসময় দেখভাল করত এবং শ্রদ্ধা করে মা বলে ডাকত। এটি গ্রামীণ সমাজের অসাম্প্রদায়িক ও নিবিড় মানবিক সম্পর্কের একটি চিরন্তন ও অত্যন্ত সুন্দর আদর্শ নিদর্শন।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রকৃতির নিখুঁত, সজীব ও প্রাণবন্ত বর্ণনা। তাঁর গদ্য শৈলী পড়লে মনে হয় চোখের সামনে কোনো সুন্দর ছবি বা প্রাকৃতিক দৃশ্যপট উন্মোচিত হচ্ছে, আর এই বিশেষ গুণটির জন্যই তাঁর গদ্যকে চিত্রাত্মক বলা হয়।
বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী মহাকাব্যিক উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। মূলত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি পল্লী প্রকৃতির অনন্য রূপকার হিসেবে সারা বিশ্বে বিপুল পরিচিতি, সমাদর ও অক্ষয় সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করেন।
বৃদ্ধাকে কবর দেওয়ার সেই বিষাদময় মুহূর্তে সেখানে ৫ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তারা মূলত ক্লান্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী একটি বড় গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এই সংখ্যাটি গল্পের ট্র্যাজিক ও মানবিক সমাপ্তির একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতীকী তথ্য।
'ইছামতি' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অমর কালজয়ী উপন্যাস, যার অনন্য রচনার জন্য তিনি মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। এটি নদী তীরের মানুষের জীবন সংগ্রাম ও প্রকৃতির এক অসাধারণ মহাকাব্যিক উপাখ্যান যা বাংলা সাহিত্যে অত্যন্ত দুর্লভ।
'মৌরিফুল' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ও জনপ্রিয় গল্পগ্রন্থ। তাঁর অধিকাংশ গল্পেই প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য এবং সাধারণ মানুষের সহজ সরল জীবনবোধের এক অপূর্ব ও নিপুণ সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়, যা পাঠকদের বিমোহিত করে রাখে।
৬২৫
'আহ্বান' গল্পে বুড়ির স্বামী কোন পেশায় নিয়োজিত ছিল?
গল্পে অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে যে বুড়ির মৃত স্বামী জমির পেশায় ছিলেন একজন দক্ষ করাতি। গ্রামীণ সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এই করাতি পেশার উল্লেখ গল্পের বাস্তবতাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
৬২৬
'অপু এবং দুর্গা' কোন চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র 'পথের পাঁচালী'র প্রধান কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো অপু ও দুর্গা। বিভূতিভূষণের মূল উপন্যাসের প্রাণভোমরা হলো এই দুই ভাইবোনের আনন্দ-বেদনাময় শৈশব ও তাদের প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে বেড়ে ওঠার গল্প।
গল্পের শুরুতে লেখক যখন অনেকদিন পর গ্রামে ফিরছিলেন, তখন ট্রেনের কামরায় তাঁর বাল্যবন্ধু ও শৈশবের সহপাঠী আবদুলের সাথে দেখা হয়। তাদের এই আকস্মিক কথোপকথনের মাধ্যমেই গল্পের মূল পটভূমি, স্মৃতিকাতরতা এবং গ্রামীণ আবহের চমৎকার সূচনা তৈরি হয়।
৬২৮
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আহ্বান' কী ধরনের গল্প?
'আহ্বান' গল্পের মূল ভিত্তি হলো এক বৃদ্ধা মুসলিম নারী এবং এক হিন্দু যুবকের মধ্যকার নিঃস্বার্থ, পবিত্র ও শ্বাশ্বত মমতা। এটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংকীর্ণ পরিচয় ছাপিয়ে এক উদার ও মহান মানবিক সম্পর্কের জয়গান গায়, যা বর্তমান সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা।
বিভূতিভূষণের 'আহ্বান' গল্পে আমরা দেখতে পাই যে কোনো রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও একজন বৃদ্ধা ও এক শহরের যুবকের মধ্যে গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। এটি জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে উদার মানবতার এক অনন্য ও কালজয়ী দলিল হিসেবে গণ্য হতে পারে।
৬৩০
'পরদিন কলকাতা চলে গেলাম।' 'আহ্বান' গল্পের কার সম্পর্কে বলা হয়েছে?
গল্পের বর্ণনাকারী বা গল্পকথক যখন তাঁর পৈতৃক ভিটা দেখতে গ্রামে আসেন, তখন দীর্ঘ ছুটি শেষে তাঁকে আবার যান্ত্রিক কর্মস্থল কলকাতায় ফিরে যেতে হয়। এই উক্তিটি তাঁর সেই অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফিরে যাওয়ার কথাটিই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আমাদের মনে করিয়ে দেয়।
MCQ পরীক্ষা সেটিংস
বাংলা ১ম পত্র
eProstuti
সহজ ও দ্রুত ক্লাস করতে অ্যাপটি ইনস্টল করুন
iPhone / iPad এ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Safari ব্রাউজারের নিচে থাকা Share ( ) বাটনে চাপ দিন।
২নিচের দিকে স্ক্রোল করে 'Add to Home Screen' ( ) নির্বাচন করুন।
৩উপরে ডানে থাকা 'Add' বাটনে ট্যাপ করুন।
Android এ অ্যাপ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Chrome ব্রাউজারের উপরে ডানে থাকা থ্রি-ডট ( ) মেনু চাপুন।
২তালিকায় 'Install app' বা 'Add to Home screen' ( ) এ ট্যাপ করুন।
ডাউনলোড সম্পন্ন হলে ফাইলটি ওপেন করে Install চাপুন।
যদি "Install unknown apps" বা "Unknown sources" অনুমতি চায়, তাহলে সেটি Allow করে আবার ইনস্টল করুন।
ইনস্টল শেষ হলে অ্যাপটি খুলে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
অ্যাপের সুবিধা:
সকল লাইভ ক্লাস
রেকর্ডেড ক্লাস
অনলাইন পরীক্ষা
ই-বুক ও নোটিশ
সবকিছু এক জায়গা থেকেই সহজে ব্যবহার করুন!
ব্রাউজারে খুলুন
⚠️ মনে হচ্ছে আপনি এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুক বা অন্য কোনো অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজার থেকে খুলেছেন।
ভালোভাবে কাজ করার জন্য দয়া করে এটি আপনার মূল ব্রাউজারে (যেমন Chrome) খুলুন।
👉 উপরে থাকা ⋮ বা ••• বাটনে চাপ দিন → তারপর “Open in Browser” সিলেক্ট করুন।