কলিমের স্ত্রী সব সময় এক অজানা দুশ্চিন্তা ও মনোকষ্টে ভুগতেন। লেখিকা তাঁর চোখেমুখে কখনো হাসি বা আনন্দ দেখেননি। এই চিন্তাক্লিষ্ট চেহারাটি মূলত তাঁর অভ্যন্তরীণ অশান্তি ও স্বামীর একচ্ছত্র আধিপত্যের কুফল হিসেবেই প্রকাশিত হয়েছিল।
কলিম সাহেব তাঁর স্ত্রীকে তাঁর আপন বোনের সাথে দেখা করতে দিতেন না। এমনকি তারা পাশাপাশি থাকলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই অমানবিক নিষ্ঠুরতা কলিমের স্ত্রীর জীবনের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণার কারণ ছিল যা লেখিকা বর্ণনা করেছেন।
৬০৩
কলিমের স্ত্রী আপন বোনের সাথে দেখা করতে পারে না কেন?
কলিমের স্ত্রী তাঁর বোনের বাড়িতে যেতে পারতেন না কারণ তাঁর স্বামীর সেখানে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। কলিমের অবাধ্য হওয়ার সাহস তাঁর ছিল না। স্বামীর এই স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারণেই বোন হওয়া সত্ত্বেও তারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
৬০৪
“হায়! বাটী যে কলিমের! তিনি যাহাকে ইচ্ছা আসিতে দিবেন, যাহাকে ইচ্ছা আসিতে দিবেন না!” কলিমের এই বৈশিষ্ট্যে কীরূপ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
কলিম সাহেব মনে করতেন বাড়িটি তাঁর এবং সেখানে কে আসবে আর কে আসবে না তা কেবল তাঁরই ইচ্ছা। এই চরম আধিপত্যকামী মনোভাবটি দেখায় যে গৃহস্বামীরা কীভাবে স্বৈরাচারী আচরণ করে ঘরের শান্তি ও সম্পর্কের মাধুর্য নষ্ট করে ফেলতেন।
কলিমের সাথে তাঁর শ্বশুরবাড়ির অর্থাৎ স্ত্রীর ভাই বা আত্মীয়দের সম্পর্ক ভালো ছিল না। সেই ঝগড়ার জের ধরে তিনি তাঁর স্ত্রীকে পিত্রালয়ে যেতে বা তাঁদের কাউকে বাড়িতে আসতে দিতেন না। এটি নারীদের ওপর পুরুষের ইগোর এক চরম বহিঃপ্রকাশ।
কলিমের স্ত্রীর অঢেল দামী গয়না ও অলঙ্কার ছিল। কিন্তু এই প্রাণহীন ধাতুগুলো তাঁর হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থামাতে পারত না। তাঁর জীবনে মানসিক শান্তি ও আপনজনের সান্নিধ্য ছিল না, যা কোনো অলঙ্কার দিয়ে পূর্ণ করা কখনোই সম্ভব নয়।
কলিমের স্ত্রী ছিলেন এতিম বা পিতৃমাতৃহীনা। তাঁর একমাত্র আপনজন ছিল তাঁর বোন। কিন্তু স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে সেই বোনের সাথেও তাঁর যোগাযোগ ছিল না। মা-বাবা না থাকায় তাঁর এই একাকিত্ব ও অসহায়ত্ব আরও বেশি প্রকট হয়ে উঠেছিল।
কলিমের স্ত্রীর একমাত্র বোন ছিল। লেখিকা বুঝিয়েছেন যে একজন মানুষের জীবনে আপনজনের সান্নিধ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই একমাত্র বোনকে দেখতে না পাওয়া কলিমের স্ত্রীর জীবনে এক অপূরণীয় শোক ও শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
৬০৯
অলঙ্কার কলিমের পিতৃমাতৃহীনা স্ত্রীর কীসের যন্ত্রণা ভোলাতে পারে না?
গয়না বা ধন-সম্পদ কখনো মানুষের মনের হাহাকার দূর করতে পারে না। লেখিকা বুঝিয়েছেন যে নারীর জন্য অলঙ্কার নয়, বরং ভালোবাসা ও আপনজনের সান্নিধ্য বেশি জরুরি। কলিমের স্ত্রীর ক্ষেত্রে অলঙ্কারগুলো ছিল সোনার শিকলের মতো যা তাকে শান্তি দিতে পারেনি।
৬১০
‘অলঙ্কার কি পিতৃমাতৃহীনা অবলার একমাত্র ভগ্নীর বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ভুলাইতে পারে?’ লেখিকার এমন প্রশ্নের কারণ কী?
লেখিকা অত্যন্ত সহমর্মিতার সাথে নারীর এই মানসিক কষ্টের কথা বলেছেন। তিনি বুঝিয়েছেন যে সমাজ ও পুরুষেরা মনে করে অলঙ্কার দিলেই নারীরা খুশি থাকে, কিন্তু তারা নারীর মনের গহীন খবর জানে না। এই সহানুভূতিই রোকেয়াকে অনন্য করে তুলেছে।
কলিমের স্ত্রীর একটি বড় দুঃখের কারণ ছিল তাঁর সতিন। তৎকালীন সমাজে বহুবিবাহ প্রথা ছিল সাধারণ বিষয়, যা নারীদের জীবনে চরম অশান্তি ও অবহেলার কারণ হয়ে দাঁড়াত। কলিমের স্ত্রীর জীবনেও এই সতিন সমস্যা তাঁর দুঃখকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
৬১২
কলিমের স্ত্রীর অন্ন, বস্ত্র বা অলঙ্কার থাকার পরেও তার নিকট গৃহ শান্তি নিকেতন বোধ হতে পারে না কেন?
গৃহ বা বাড়ি মানেই শান্তি নয়। যদি সেখানে স্বামীর নিষ্ঠুর আধিপত্য থাকে এবং স্ত্রীর কোনো সম্মান না থাকে, তবে তা নরকতুল্য। কলিমের স্ত্রীর ক্ষেত্রে তাঁর অন্ন-বস্ত্রের অভাব না থাকলেও স্বামীর একনায়কতন্ত্রের কারণে সেখানে শান্তির লেশমাত্র ছিল না।
শরাফত উকিল ছিলেন একজন বিত্তবান মানুষ। তাঁর প্রচুর অর্থ ও জমিজমা ছিল। কিন্তু তাঁর এই বিশাল সম্পত্তির প্রাচুর্যের আড়ালে তাঁর বাড়ির নারীরা ছিল বন্দী। এই সম্পদ তাদের কোনো স্বাধীনতা বা প্রকৃত সুখ এনে দিতে পারেনি যা লেখিকা স্পষ্ট করেছেন।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অপরাজিত' অমর সৃষ্টি 'পথের পাঁচালী'র পরবর্তী অংশ। এটি লেখকের জীবনের নানা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছায়ায় রচিত একটি সার্থক আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস, যেখানে অপুর শৈশব পেরিয়ে বড় হওয়ার গল্প অত্যন্ত নিপুণভাবে বর্ণিত হয়েছে।
'আহ্বান' গল্পে বৃদ্ধা বা বুড়ির স্বামী জমির পেশায় একজন করাতি ছিলেন। লেখকের বর্ণনায় গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের সহজ-সরল জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে জমির করাতি ছিলেন সেই জনপদেরই একজন অতি সাধারণ মানুষ যার পরিচয় বুড়ির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।
MCQ পরীক্ষা সেটিংস
বাংলা ১ম পত্র
eProstuti
সহজ ও দ্রুত ক্লাস করতে অ্যাপটি ইনস্টল করুন
iPhone / iPad এ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Safari ব্রাউজারের নিচে থাকা Share ( ) বাটনে চাপ দিন।
২নিচের দিকে স্ক্রোল করে 'Add to Home Screen' ( ) নির্বাচন করুন।
৩উপরে ডানে থাকা 'Add' বাটনে ট্যাপ করুন।
Android এ অ্যাপ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Chrome ব্রাউজারের উপরে ডানে থাকা থ্রি-ডট ( ) মেনু চাপুন।
২তালিকায় 'Install app' বা 'Add to Home screen' ( ) এ ট্যাপ করুন।
ডাউনলোড সম্পন্ন হলে ফাইলটি ওপেন করে Install চাপুন।
যদি "Install unknown apps" বা "Unknown sources" অনুমতি চায়, তাহলে সেটি Allow করে আবার ইনস্টল করুন।
ইনস্টল শেষ হলে অ্যাপটি খুলে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
অ্যাপের সুবিধা:
সকল লাইভ ক্লাস
রেকর্ডেড ক্লাস
অনলাইন পরীক্ষা
ই-বুক ও নোটিশ
সবকিছু এক জায়গা থেকেই সহজে ব্যবহার করুন!
ব্রাউজারে খুলুন
⚠️ মনে হচ্ছে আপনি এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুক বা অন্য কোনো অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজার থেকে খুলেছেন।
ভালোভাবে কাজ করার জন্য দয়া করে এটি আপনার মূল ব্রাউজারে (যেমন Chrome) খুলুন।
👉 উপরে থাকা ⋮ বা ••• বাটনে চাপ দিন → তারপর “Open in Browser” সিলেক্ট করুন।