খদিজা তাঁর ঘরোয়া জীবনের মায়া ও সম্পর্কের টান বোঝাতে এই কথাটি বলেছিলেন। এই উক্তির মাধ্যমে লেখিকা একজন সাধারণ গৃহিণীর আপন গৃহের প্রতি মমতা ও অধিকার বোধকে তুলে ধরেছেন, যদিও সেই অধিকারটি ছিল কেবল চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ।
জমিলার বাড়ির অন্দরমহলে যাওয়ার গলিটি ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ বা অপ্রশস্ত। এই অপ্রশস্ত গলিটি যেন তৎকালীন মুসলিম নারী সমাজের বন্দি ও সংকীর্ণ জীবনেরই এক প্রতীকী রূপ, যেখানে বাইরের পৃথিবীর আলো-বাতাস ঢোকার পথও ছিল খুব সীমিত।
লেখিকা লক্ষ করেছেন যে জমিলার বাড়ির ঘরগুলো ছিল অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও আলো-বাতাসহীন। একটির ওপর আরেকটি ঘর যেন স্তূপীকৃত অবস্থায় ছিল। নারীদের বসবাসের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে প্রাবন্ধিক অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছিলেন এবং তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
একটি দরজা খোলার পর লেখিকা সেখানে হাসিনাকে দেখতে পান। হাসিনার এই অন্দরমহলে অবস্থানটি নারীদের গৃহবন্দি জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। প্রাবন্ধিক তাঁর ভ্রমণের প্রতিটি ধাপে এমন সব নারীদের মুখোমুখি হয়েছেন যারা নিজ গৃহেই পরবাসী হয়ে আছে।
৫৯০
‘দেখিলে এই দ্বারের ওপার্শ্বে আমার ভাইয়ের বাড়ি, এপার্শ্বে আমার বাড়ি।’ জমিলার এ উক্তির কারণ কী?
জমিলাদের মতে, আত্মীয়দের সবার বাড়ি যেহেতু পাশাপাশি, তাই বাইরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজনই তাদের নেই। এই মানসিকতাটি আসলে নারীদের গৃহবন্দি করে রাখার একটি কুযুক্তি মাত্র। তাদের এই সংকীর্ণ ধারণাটিই লেখিকা এই উক্তির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।
গোষ্ঠীর সবার বাড়ি একদম গায়ে গায়ে লাগানো হওয়ায় জমিলাদের কখনো যানবাহনের প্রয়োজন হয় না। তারা এক উঠান থেকে অন্য উঠানে গেলেই আত্মীয়দের বাড়ি পৌঁছাতে পারে। এই ভৌগোলিক অবস্থানই তাদের বাইরের জগত থেকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল।
৫৯২
‘কেবল চারি প্রাচীরের ভিতর থাকিলেই গৃহে থাকা হয় না।’ কেন?
লেখিকার মতে, কেবল ঘরের চার দেয়ালের মাঝে আটকে থাকাকেই প্রকৃত অর্থে গৃহে থাকা বলা যায় না। গৃহে যদি মানুষের নিজের স্বাধীনতা ও শান্তি না থাকে, তবে তা কারাগারের মতো। নারীর ক্ষেত্রে এই স্বাধীনতার অভাবটিই তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন।
বাসরঘরকে ‘কোহবর’ বলা হয়। এটি একটি ফারসি শব্দ যা বিয়ের নবদম্পতির শয়নকক্ষকে বোঝায়। তবে লেখিকা এই প্রবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বাসরঘরের চার দেয়ালের বন্দিত্বকে ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করেছেন যা পরবর্তী প্রশ্নে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বেগম রোকেয়া অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেছেন যে বাসরঘরকে ‘কবর’ বলা উচিত। কারণ সেখানে বিয়ের পর একজন নারী সারা জীবনের জন্য বন্দি হয়ে যায়। তার স্বপ্ন ও স্বাধীনতার মৃত্যু ঘটে সেই ঘরেই, তাই এটি কবির কাছে কবরের মতোই যন্ত্রণাদায়ক ও নিস্তব্ধ।
জমিলার বাড়িতে এক পাল ছাগল ও হাঁস-মুরগি ছিল। তিনি গর্ব করে লেখিকাকে সেগুলো দেখাচ্ছিলেন। প্রাণীদের এই সাহচর্যে থাকাটি তাঁর জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করত, যা প্রাবন্ধিক তাঁর বর্ণনায় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছেন।
৫৯৬
‘সেখানে যেমন এক পাল ছাগল আছে, হংস-কুক্কুট আছে, সেইরূপ একদল স্ত্রীলোকও আছেন!’ বাক্যটিতে নারীদের প্রতি কীরূপ মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে?
নারীদের পশুপাখির সাথে তুলনা করে লেখিকা বুঝিয়েছেন যে সমাজে নারীদের কোনো স্বাধীন সত্তা নেই। ছাগল বা হাঁস-মুরগি যেমন মালিকের ইচ্ছাধীন, নারীরাও তেমনি পুরুষ শাসিত সমাজে কেবল আশ্রিতা হিসেবে গণ্য হয়। এটি নারীদের প্রতি সমাজের চরম অবজ্ঞা।
৫৯৭
‘গৃহ’ প্রবন্ধে স্ত্রীলোকদের ‘বন্দিনী’ বলার কারণ কী?
নারীরা আজীবন স্বামীর শাসনে ও ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। তাদের নিজেদের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। এই পরাধীনতা ও শৃঙ্খলিত জীবনের কারণেই লেখিকা নারীদের ‘বন্দিনী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত।
৫৯৮
পরিবারের প্রধান পুরুষটি সাধারণত গৃহ সম্পর্কে কী মনে করেন?
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পরিবারের কর্তা মনে করেন বাড়িটি কেবল তাঁর একার। সেখানে অন্য সদস্যদের, বিশেষ করে নারীদের কোনো মালিকানা বা অধিকার নেই। এই আধিপত্যবাদী মানসিকতা গৃহের শান্তি নষ্ট করে এবং নারীদেরকে পরগাছা হিসেবে বাঁচতে বাধ্য করে।
৫৯৯
পরিবারের প্রধান পুরুষটি পরিবারস্থ অন্যান্য লোকদের কী মনে করেন?
বাড়ির প্রধান পুরুষের কাছে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিশেষ করে নারীরা কেবল ‘আশ্রিতা’ হিসেবে গণ্য হয়। তাদের থাকা-খাওয়া সব কিছুই পুরুষের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। এই হীনমন্যতা ও পরনির্ভরশীলতা নারীদের আত্মমর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।
৬০০
মালদহে লেখিকা যে বাড়িতে যাতায়াত করেছেন তার গৃহস্বামী কে ছিলেন?
লেখিকা মালদহে কলিম সাহেবের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং সেখানে তিনি কলিমের স্ত্রীর সাথে পরিচিত হন। কলিমের এই বাড়িটি ছিল বাহ্যিক দৃষ্টিতে অনেক সুন্দর, কিন্তু এর ভেতরে থাকা নারীদের জীবন ছিল অত্যন্ত করুণ ও বিষাদময় যা লেখিকা প্রত্যক্ষ করেছেন।
MCQ পরীক্ষা সেটিংস
বাংলা ১ম পত্র
eProstuti
সহজ ও দ্রুত ক্লাস করতে অ্যাপটি ইনস্টল করুন
iPhone / iPad এ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Safari ব্রাউজারের নিচে থাকা Share ( ) বাটনে চাপ দিন।
২নিচের দিকে স্ক্রোল করে 'Add to Home Screen' ( ) নির্বাচন করুন।
৩উপরে ডানে থাকা 'Add' বাটনে ট্যাপ করুন।
Android এ অ্যাপ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Chrome ব্রাউজারের উপরে ডানে থাকা থ্রি-ডট ( ) মেনু চাপুন।
২তালিকায় 'Install app' বা 'Add to Home screen' ( ) এ ট্যাপ করুন।
ডাউনলোড সম্পন্ন হলে ফাইলটি ওপেন করে Install চাপুন।
যদি "Install unknown apps" বা "Unknown sources" অনুমতি চায়, তাহলে সেটি Allow করে আবার ইনস্টল করুন।
ইনস্টল শেষ হলে অ্যাপটি খুলে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
অ্যাপের সুবিধা:
সকল লাইভ ক্লাস
রেকর্ডেড ক্লাস
অনলাইন পরীক্ষা
ই-বুক ও নোটিশ
সবকিছু এক জায়গা থেকেই সহজে ব্যবহার করুন!
ব্রাউজারে খুলুন
⚠️ মনে হচ্ছে আপনি এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুক বা অন্য কোনো অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজার থেকে খুলেছেন।
ভালোভাবে কাজ করার জন্য দয়া করে এটি আপনার মূল ব্রাউজারে (যেমন Chrome) খুলুন।
👉 উপরে থাকা ⋮ বা ••• বাটনে চাপ দিন → তারপর “Open in Browser” সিলেক্ট করুন।