লেখক যখন গ্রামে যান, তখন তাঁর মৃত বাবার পরম শ্রদ্ধেয় ও পুরনো বন্ধু চক্কত্তি মহাশয় তাঁকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। বাবার বন্ধুর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা ও তাঁর মূল্যবান উপদেশের মাধ্যমেই লেখক গ্রামীণ পরিবেশ ও ঐতিহ্যের সাথে পুনরায় নিবিড়ভাবে যুক্ত হন।
এই সংক্ষিপ্ত বাক্যটির মাধ্যমে কাউকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করা বা মঙ্গল কামনা করা হচ্ছে। বাংলা ব্যাকরণগতভাবে যখন কোনো বাক্য দ্বারা আদেশ, উপদেশ, বিনয় বা প্রার্থনা বোঝানো হয়, তখন সেই ধরনের বাক্যকে অনুজ্ঞা বা অনুজ্ঞাসূচক বাক্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়া, কোনো বিষয় মিটে যাওয়া বা কোনো ঝামেলার চিরস্থায়ী সমাধান হয়ে যাওয়াকে গ্রামের চলতি ভাষায় 'চুকে যাওয়া' বলা হয়। লেখক এই শব্দটির সার্থক ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট প্রসঙ্গের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি বোঝাতে চেয়েছেন তাঁর শৈল্পিক বর্ণনায়।
৬৬৪
আম বাগানে প্রথম দেখায় বুড়ি কীরকম দৃষ্টিতে লেখকের দিকে চেয়েছিল?
আমবাগানে লেখকের সাথে প্রথম দেখাতেই বৃদ্ধা তাঁকে ঠিক চিনতে পারেননি। তিনি অত্যন্ত উৎসুক হয়ে এবং চোখে এক ধরনের গভীর জিজ্ঞাসা নিয়ে লেখকের মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন, যেন তিনি অনেকদিন আগে হারিয়ে যাওয়া নিজের কাউকেই খুঁজে পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত।
গল্পকথক বা লেখক মূলত তাঁর জীবিকা ও কর্মসূত্রে বড় শহর কলকাতায় স্থায়ীভাবে থাকতেন। তাঁর পৈতৃক ভিটার সংস্কার কাজ ও দীর্ঘ ছুটির সময় শেষ হওয়ার কারণেই তাঁকে বারবার শান্ত মায়াময় গ্রাম ছেড়ে যান্ত্রিক ও ব্যস্ত শহর কলকাতায় ফিরে যেতে হতো জীবিকার তাগিদে।
শহরের অত্যন্ত কর্মব্যস্ত জীবন এবং যান্ত্রিকতা মানুষের মন থেকে অনেক সময় সহজ ও সুন্দর স্মৃতিগুলোকে মুছে দেয়। লেখকও তেমনি কলকাতার তীব্র ব্যস্ততায় গ্রামের সেই বৃদ্ধার সহজ সরল কথা ও তাঁর পবিত্র অকৃত্রিম স্নেহের কথা সাময়িকভাবে ভুলে গিয়েছিলেন নিজের অজান্তেই।
৬৬৭
'ময়লা ছেঁড়া কাপড়ের প্রান্ত' শব্দগুচ্ছে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?
বৃদ্ধার পরনের জীর্ণ ও নোংরা কাপড়ের বর্ণনা দিয়ে লেখক মূলত তাঁর চরম দরিদ্র দশা ও গ্রামীণ অভাবী মানুষের করুণ জীবনকে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই সামান্য একটি তথ্যের মাধ্যমেই বৃদ্ধার সারাজীবনের সীমাহীন অভাব-অনটনের এক অত্যন্ত মূর্ত ও জীবন্ত ছবি আমাদের চোখের সামনে ফুটে ওঠে।
বৃদ্ধা লেখককে অত্যন্ত আপন ভেবে পরম আদরে 'ওরে আমার গোপাল' বলে ডাকত। এই মা ডাকের মতো অত্যন্ত মায়াবী ও হৃদস্পর্শী সম্বোধন লেখকের মনের গহীনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও অকৃত্রিম ভালো লাগার সৃষ্টি করত, যা তাঁকে বারবার তাঁর ফেলে আসা শৈশবের মতো স্মৃতিকাতর করে তুলত।
বৃদ্ধা যখন একদম মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তাঁর মাথার নিচে যে ময়লা বালিশটি রাখা ছিল তা ছিল অত্যন্ত পুরনো, জীর্ণ ও প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য। এই ছোট বর্ণনার মাধ্যমেই তাঁর চরম নিঃসঙ্গ, অবহেলিত ও দারিদ্র্যপীড়িত শেষ জীবনের এক অত্যন্ত করুণ ছবি আমাদের সামনে ফুটে ওঠে।
বৃদ্ধার চরম একাকী জীবনে প্রতিবেশী হাজরা ব্যাটার বউই ছিল তাঁর একমাত্র প্রকৃত সহায় ও শুভাকাঙ্ক্ষী। তাদের ঘর দুটো পাশাপাশি হওয়ায় বিপদে-আপদে তারা সব সময় একে অপরকে আগলে রাখত, যা গ্রামীণ প্রতিবেশীদের মধ্যকার অকৃত্রিম ও সুগভীর ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য প্রমাণ।
গল্পের শেষ পর্যায়ে যখন সেই স্নেহের আধার বৃদ্ধার মৃত্যু হয়, তখন তাকে তিত্তিরাজ বা মাকাল গাছের শীতল তলায় চিরনিদ্রায় সমাধিস্থ করা হয়। এই শেষ বিদায়ের দৃশ্যটি প্রতিটি পাঠকের মনে এক গভীর শূন্যতা, মানবিক উপলব্ধি ও পরম বিষাদের সৃষ্টি করে যা সহজে ভোলার নয়।
বাংলার পুরনো ধাঁচের মাটির বাড়িগুলোতে ঘরের ঠিক সামনে যে খোলা নিচু বারান্দা বা উঁচু মাটির চাতাল থাকে, তাকেই আঞ্চলিক ভাষায় 'রোয়াক' বলা হয়। লেখক ও বৃদ্ধার জীবনের অনেক স্মৃতিবিজড়িত মায়াবী কথোপকথন এই রোয়াকেই নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়েছিল যা গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
গল্পের বর্ণনানুসারে, লেখক যখন এক শরতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে গ্রামে আসেন, তখনই তিনি সেই বৃদ্ধার করুণ মৃত্যু সংবাদ পান। বাংলার শান্ত প্রকৃতির স্নিগ্ধ আবহের মাঝে বৃদ্ধার এই চিরকালীন বিদায় এক মরমী ও সমাহিত রূপ নিয়ে পাঠকের সামনে আবির্ভূত হয় যা অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও কালজয়ী উপন্যাস 'অপরাজিত' তৎকালীন বিখ্যাত 'প্রবাসী' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই তথ্যটি লেখকের সাহিত্যিক সাফল্যের যাত্রা এবং তৎকালীন পাঠক সমাজের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল।
৬৭৫
'কতকাল পরে বাবা মনে পড়ল দেশের কথা?' 'আহ্বান' গল্পে এ উক্তি কে করেছিলেন?
লেখক দীর্ঘ অনেক বছর পর যখন পুনরায় নিজের পৈতৃক গ্রামে ফিরে আসেন, তখন বাবার বন্ধু চক্কত্তি মহাশয় অবাক হয়ে ও পরম স্নেহের সাথে এই উক্তিটি করেছিলেন। এর মাধ্যমে লেখকের প্রতি গ্রামীণ মানুষের গভীর টান, মায়া ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার এক অকৃত্রিম ছবি ফুটে ওঠে।
MCQ পরীক্ষা সেটিংস
বাংলা ১ম পত্র
eProstuti
সহজ ও দ্রুত ক্লাস করতে অ্যাপটি ইনস্টল করুন
iPhone / iPad এ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Safari ব্রাউজারের নিচে থাকা Share ( ) বাটনে চাপ দিন।
২নিচের দিকে স্ক্রোল করে 'Add to Home Screen' ( ) নির্বাচন করুন।
৩উপরে ডানে থাকা 'Add' বাটনে ট্যাপ করুন।
Android এ অ্যাপ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Chrome ব্রাউজারের উপরে ডানে থাকা থ্রি-ডট ( ) মেনু চাপুন।
২তালিকায় 'Install app' বা 'Add to Home screen' ( ) এ ট্যাপ করুন।
ডাউনলোড সম্পন্ন হলে ফাইলটি ওপেন করে Install চাপুন।
যদি "Install unknown apps" বা "Unknown sources" অনুমতি চায়, তাহলে সেটি Allow করে আবার ইনস্টল করুন।
ইনস্টল শেষ হলে অ্যাপটি খুলে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
অ্যাপের সুবিধা:
সকল লাইভ ক্লাস
রেকর্ডেড ক্লাস
অনলাইন পরীক্ষা
ই-বুক ও নোটিশ
সবকিছু এক জায়গা থেকেই সহজে ব্যবহার করুন!
ব্রাউজারে খুলুন
⚠️ মনে হচ্ছে আপনি এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুক বা অন্য কোনো অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজার থেকে খুলেছেন।
ভালোভাবে কাজ করার জন্য দয়া করে এটি আপনার মূল ব্রাউজারে (যেমন Chrome) খুলুন।
👉 উপরে থাকা ⋮ বা ••• বাটনে চাপ দিন → তারপর “Open in Browser” সিলেক্ট করুন।