বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস অবলম্বনে কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর জীবনের প্রথম চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। এই কালজয়ী ছবিটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের দরবারে বাংলা সাহিত্যকে এক অনন্য ও গৌরবময় উচ্চতায় নিয়ে যায়।
৬৩২
পাঠ্যসূচিভুক্ত 'আহ্বান' গল্পের বুড়ির স্বামীর নাম কী?
গল্পের বর্ণনায় খুব পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায় বৃদ্ধার স্বামী জমির ছিলেন একজন অত্যন্ত দক্ষ করাতি। যদিও গল্পের শুরুতে তিনি মৃত, কিন্তু গ্রামের মানুষের কাছে বৃদ্ধার প্রধান পরিচয় ছিল 'জমির করাতির স্ত্রী' হিসেবেই, যা গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ।
বৃদ্ধা যখনই লেখকের কাছে আসত, তখন সে তাঁর জন্য কোনো না কোনো খাবার নিয়ে আসত। এর মধ্যে লেবু, আম, কুমড়ো ও কাঁচকলা ছিল প্রধান উপহার। এটি ছিল লেখকের প্রতি তাঁর নিঃস্বার্থ, পবিত্র ও এক অকৃত্রিম স্নেহের এক পরম বড় নিদর্শন যা অতুলনীয়।
'আহ্বান' গল্পের প্রতিটি লাইনে লেখক আমাদের দেখিয়েছেন যে মানুষের মধ্যে অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসার কোনো কৃত্রিম সীমানা নেই। এটি ধর্ম ও বর্ণের প্রাচীর ভেঙে এক উদার ও সমৃদ্ধ মানবিক সমাজ গঠনের বলিষ্ঠ বার্তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেয়।
বৃদ্ধার মনে কোনো জাগতিক স্বার্থ ছিল না, ছিল শুধু সন্তানের মতো এক যুবকের প্রতি চিরন্তন ও অগাধ মমতা। তাই সে বারবার সেই অমোঘ স্নেহের টানেই লেখকের বাড়িতে ছুটে আসত। এই পবিত্র স্নেহবোধই গল্পের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে শুরু থেকে শেষ অবধি কাজ করেছে।
'আহ্বান' শব্দটির শুদ্ধ ও সঠিক বাংলা উচ্চারণ হলো 'আওভান'। মনে রাখবে, বাংলায় 'হ' বর্ণের সাথে 'ব' ফলা যুক্ত থাকলে তার উচ্চারণ অনেকটা 'ও' এর মতো বা দ্বিত্ব হয়ে যায়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধ্বনিতাত্ত্বিক নিয়ম যা পরীক্ষার জন্য তোমাদের খুব ভালো করে শিখতে হবে।
গ্রামের মানুষেরা যখন দীর্ঘ সময় পর প্রিয় কাউকে দেখে, তখন তারা এমন মায়াবী আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করে। এখানে 'কনে থেকে এলে' বলতে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে যে লেখক ঠিক কোথা থেকে আসছেন বা এতোদিন কোথায় ছিলেন, যা গ্রামীণ আন্তরিকতারই এক সুন্দর বহিঃপ্রকাশ।
বৃদ্ধার কোনো সহায়-সম্বল বা স্থায়ী আশ্রয় ছিল না। তার নিজের বলতে যেমন কেউ ছিল না, তেমনি তার শেষ জীবনে থাকার মতো একখণ্ড জমিও ছিল না। এই চরম নিঃস্বতাই ছিল তার জীবনের প্রধান কষ্টের কারণ, যা লেখক অত্যন্ত দরদ ও সহমর্মিতা দিয়ে আমাদের সামনে ফুটিয়ে তুলেছেন।
দরিদ্র বৃদ্ধার কাছে দেওয়ার মতো দামী কিছু ছিল না, কিন্তু তার মনে ছিল অফুরন্ত ভালোবাসা। তাই সে তার চিরচেনা ময়লা ছেঁড়া কাপড়ের খুঁট থেকে লেখকের জন্য পরম স্নেহের উপহার হিসেবে নিজের গাছের কয়েকটা আম বের করে দিয়েছিল, যা পৃথিবীর যে কোনো মূল্যের চেয়ে বেশি।
৬৪০
'কেন বাবা, পয়সা কেন?' বুড়ির এ বক্তব্যে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?
লেখক যখন আমগুলোর দাম দিতে চাইলেন, তখন বৃদ্ধা লজ্জিত ও কিছুটা অপমানিত বোধ করেছিল। কারণ পবিত্র স্নেহের কোনো জাগতিক দাম হয় না। তার এই দৃঢ় প্রতিবাদের মাধ্যমে তার আত্মমর্যাদা ও গভীর মমত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায় যা আমাদের শিক্ষা দেয় সম্পর্কের মূল্য বুঝতে।
বৃদ্ধার এক নাতজামাই ছিল যে বৃদ্ধাকে দেখাশোনা তো দূরের কথা, বরং তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ঘরবাড়ি হাতিয়ে নিতে চাইত। গল্পের প্রেক্ষাপটে তাকেই একজন চরম স্বার্থপর, নির্দয় ও নিষ্ঠুর চরিত্রের মানুষ হিসেবে অত্যন্ত নিপুণভাবে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বাঙালি ব্রাহ্মণদের একটি বিশেষ উপাধি হলো 'চক্রবর্তী', যা কালক্রমে লোকমুখে পরিবর্তিত হয়ে 'চক্কত্তি' হিসেবে বাংলায় প্রচলিত হয়েছে। এটি গ্রামীণ সমাজের আঞ্চলিক কথ্য ভাষার একটি সাধারণ বিবর্তন যা বিভূতিভূষণ তাঁর বাস্তবধর্মী লেখায় অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবহার করেছেন।
৬৪৩
'অহ্লাদে আটখানা' ভাষার প্রয়োগে এটি কোন শ্রেণিভুক্ত?
অত্যন্ত আনন্দিত হওয়া, বিমোহিত হওয়া বা সীমাহীন খুশি হওয়া বোঝাতে বাংলা ভাষায় 'অহ্লাদে আটখানা' বাগধারাটি বহুল ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর লেখকের আকস্মিক সান্নিধ্য পেয়ে বৃদ্ধার মনের যে আনন্দময় অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা বোঝাতেই এই চমৎকার শব্দগুচ্ছটি ব্যবহৃত।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর 'আহ্বান' গল্পে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে লেখক যখন জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রচণ্ড কাঠফাটা গরমে ছুটি কাটাতে নিজের পৈতৃক গ্রামে আসেন, তখনই আমবাগানের মাঝে সেই বৃদ্ধার সাথে তাঁর জীবনের প্রথম দেখা ও অবিস্মরণীয় কথোপকথন শুরু হয়।
গল্পের সূচনা হয় জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রচণ্ড গরমে আর তার করুণ সমাপ্তি ঘটে এক কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে লেখক ও বৃদ্ধার আত্মিক সম্পর্কের গভীরতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গল্পের সামগ্রিক আবহে এক ভিন্ন মাত্রার মানবিকতা ও বিষাদ যোগ করেছে।
MCQ পরীক্ষা সেটিংস
বাংলা ১ম পত্র
eProstuti
সহজ ও দ্রুত ক্লাস করতে অ্যাপটি ইনস্টল করুন
iPhone / iPad এ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Safari ব্রাউজারের নিচে থাকা Share ( ) বাটনে চাপ দিন।
২নিচের দিকে স্ক্রোল করে 'Add to Home Screen' ( ) নির্বাচন করুন।
৩উপরে ডানে থাকা 'Add' বাটনে ট্যাপ করুন।
Android এ অ্যাপ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Chrome ব্রাউজারের উপরে ডানে থাকা থ্রি-ডট ( ) মেনু চাপুন।
২তালিকায় 'Install app' বা 'Add to Home screen' ( ) এ ট্যাপ করুন।
ডাউনলোড সম্পন্ন হলে ফাইলটি ওপেন করে Install চাপুন।
যদি "Install unknown apps" বা "Unknown sources" অনুমতি চায়, তাহলে সেটি Allow করে আবার ইনস্টল করুন।
ইনস্টল শেষ হলে অ্যাপটি খুলে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
অ্যাপের সুবিধা:
সকল লাইভ ক্লাস
রেকর্ডেড ক্লাস
অনলাইন পরীক্ষা
ই-বুক ও নোটিশ
সবকিছু এক জায়গা থেকেই সহজে ব্যবহার করুন!
ব্রাউজারে খুলুন
⚠️ মনে হচ্ছে আপনি এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুক বা অন্য কোনো অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজার থেকে খুলেছেন।
ভালোভাবে কাজ করার জন্য দয়া করে এটি আপনার মূল ব্রাউজারে (যেমন Chrome) খুলুন।
👉 উপরে থাকা ⋮ বা ••• বাটনে চাপ দিন → তারপর “Open in Browser” সিলেক্ট করুন।