জ্যৈষ্ঠের পর শরৎ ও আশ্বিন মাসের ছুটিতেও লেখক যখন আবার গ্রামে ফিরেছিলেন, সেই সময়েই তিনি তাঁর নিজের নতুন তৈরি হওয়া পরিপাটি ঘরখানায় ওঠেন। ঋতুভিত্তিক এই নিপুণ বর্ণনায় বাংলার চিরচেনা অকৃত্রিম প্রকৃতির এক নিখুঁত ও জীবন্ত ছবি আমাদের মানসপটে ফুটে ওঠে।
বৃদ্ধার স্বামী ঠিক কী কাজ করতেন তা গল্পের বিভিন্ন জায়গায় লেখক উল্লেখ করেছেন যে তিনি জমির করাতি ছিলেন বা করাতির কাজ করতেন। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের মাধ্যমে তখনকার গ্রামীণ পেশা, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এবং সামাজিক কাঠামোর একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত আমাদের দেওয়া হয়েছে।
খুঁটি গোয়ালিনী ছিল এক চতুর ও দুষ্ট প্রকৃতির নারী যে দুধে প্রচুর জল মিশিয়ে গ্রামের সহজ মানুষদের কাছে বিক্রি করত। লেখকের প্রতি বৃদ্ধার অকৃত্রিম স্নেহের অন্যতম বড় প্রমাণ হলো, তিনি লেখককে এই ভেজাল দুধ খাওয়ার ব্যাপারে আগে থেকেই অত্যন্ত সতর্ক ও সাবধান করে দিয়েছিলেন।
বৃদ্ধা নিজের কষ্টার্জিত সামান্য টাকা দিয়ে লেখকের জন্য খাটি দুধ কিনে আনতেন। একজন মা যেমন সব সময় তার সন্তানের মঙ্গলের জন্য ব্যাকুল থাকেন, বৃদ্ধার এই আচরণের মধ্য দিয়ে ঠিক সেই একই রকম নিবিড় ও গভীর স্নেহবোধের প্রকাশ ঘটেছে যা কোনো ধর্মের সীমানায় আবদ্ধ নয়।
শুষ্ক পাতা বা পুরনো কাপড়ের নাড়াচাড়ার খসখসে শব্দ বোঝাতে 'খড়মড়' শব্দটি অত্যন্ত নিপুণভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্ব যা গল্পের বর্ণনাকে আরও বেশি শ্রবণযোগ্য, জীবন্ত এবং বাস্তবসম্মত করে তুলেছে পাঠকদের কল্পনা জগতের প্রেক্ষাপটে।
৬৫১
'তিনি কল্লেন, ও হলো জমির করাতির স্ত্রী।' কার সম্পর্কে এ কথাটি বলা হয়েছে?
গ্রামের বর্ষীয়ান ও শ্রদ্ধেয় চক্কত্তি মহাশয় লেখককে বুড়ির পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে সে হলো মৃত জমির করাতির বিধবা স্ত্রী। এর মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজের মানুষের পারস্পরিক গভীর জানাশোনা, সামাজিক বন্ধন এবং একে অপরের খবরাখবর রাখার একটি সুন্দর বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়।
বৃদ্ধা যখন লেখকের জন্য কষ্ট করে দুধ কিনে আনতেন, তখন লেখক সৌজন্যবশত তাকে কিছু টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে লেখকের মনে হলো যে এমন পবিত্র ও অকৃত্রিম স্নেহের বিনিময়ে সামান্য টাকা দিতে চাওয়াটা ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর মনে এক গভীর নৈতিক দ্বিধা ছিল।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত একজন বন্দ্যোপাধ্যায় বা বাড়ুয্যে ব্রাহ্মণ বংশের সন্তান ছিলেন। তাঁর এই নিজস্ব পারিবারিক ও সামাজিক পরিচয়ের সাথে তাঁর সৃষ্ট গ্রামীণ চরিত্রগুলোর এক চমৎকার আত্মিক ও মানবিক যোগাযোগ প্রতিটি গল্পেই বেশ নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করা যায় যা তাঁর বৈশিষ্ট্য।
৬৫৪
'আহ্বান' গল্পে পরের দিন বুড়ির কোথায় এসে হাজির হওয়ার কথা-
বৃদ্ধার সাথে প্রথম আকস্মিক দেখার পর লেখক তাকে অত্যন্ত সাদরে তাঁর বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পরদিন বুড়ি ঠিকই সেই স্নেহের ডাকে সাড়া দিয়ে লেখকের দাওয়ায় বা উঠোনে এসে হাজির হয়, যা ছিল মূলত তাদের এক দীর্ঘ ও অমর সম্পর্কের এক চমৎকার শুভ সূচনা।
বৃদ্ধা অত্যন্ত বয়স্ক ও জরাগ্রস্ত ছিলেন এবং হাঁটার সময় তাঁকে সব সময় একটি ছোট কাঠের লাঠির ওপর ভর দিয়ে চলতে হতো। এই লাঠিটিকেই আঞ্চলিক ভাষায় 'নড়ি' বলা হয়েছে, যা বৃদ্ধার বার্ধক্য, একাকীত্ব ও শারীরিক অসহায়ত্বের এক নীরব প্রতীক হিসেবে গল্পের পরতে পরতে ব্যবহৃত হয়েছে।
৬৫৬
'আহ্বান' গল্পে গ্রামে ঢুকেই লেখকের সঙ্গে প্রথম কার দেখা হলো?
লেখক যখন অনেক বছর পর নিজের গ্রামে পুনরায় প্রবেশ করেন, তখন জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দুপুরে আমবাগানের ছায়াময় পথের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় জমির করাতির স্ত্রীর বা সেই অসহায় বৃদ্ধার সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে। এই ঘটনাটিই মূলত গল্পের মূল কাহিনীর এক চমৎকার ও মানবিক সূচনা ঘটায়।
৬৫৭
'আহ্বান' গল্পের আলোকে মানুষের প্রকৃত সুখ কিসে আসে?
গল্পের পরিসমাপ্তিতে আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করি যে প্রকৃত সুখ কোনো জাগতিক ধন-সম্পদ বা প্রাচুর্যে নেই। এটি মূলত লুকিয়ে থাকে মানুষের একে অপরের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা, অকৃত্রিম আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার মাঝে। এই মহান সত্যটিই এই গল্পের মূল চিরন্তন শিক্ষা বা জীবনদর্শন।
সেকালে পড়াশোনায় কোনো বিশেষ মেধার স্বাক্ষর রাখলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় সম্মানজনক স্থান পেলে তাকে 'ডিস্টিংশন' বলা হতো। এটি তৎকালীন শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত আভিজাত্যপূর্ণ, সম্মানজনক ও গৌরবের অর্জন হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের কাছে গণ্য করা হতো।
গল্পের শেষের দিকে লেখক যখন অনেকদিন পর পুনরায় গ্রামে ফিরে আসেন, তখন শুকুর মিয়া তাঁকে অত্যন্ত বিষাদগ্রস্ত মনে জানান যে বৃদ্ধা বা বুড়ি বর্তমানে মারাত্মক অসুস্থ এবং সম্ভবত সে এবার আর বাঁচবে না। এটি গল্পের এক অত্যন্ত করুণ ও মরমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত বহন করে।
এই কালজয়ী গল্পে লেখক নিজে একজন প্রধান চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এবং নিজের জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা অত্যন্ত সহজভাবে বর্ণনা করেছেন। তাই এই বর্ণনার বিশেষ রীতিকে বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণের ভাষায় 'উত্তমপুরুষের দৃষ্টিকোণ' বা ফার্স্ট পারসন ন্যারেটিভ বলা হয়।
MCQ পরীক্ষা সেটিংস
বাংলা ১ম পত্র
eProstuti
সহজ ও দ্রুত ক্লাস করতে অ্যাপটি ইনস্টল করুন
iPhone / iPad এ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Safari ব্রাউজারের নিচে থাকা Share ( ) বাটনে চাপ দিন।
২নিচের দিকে স্ক্রোল করে 'Add to Home Screen' ( ) নির্বাচন করুন।
৩উপরে ডানে থাকা 'Add' বাটনে ট্যাপ করুন।
Android এ অ্যাপ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Chrome ব্রাউজারের উপরে ডানে থাকা থ্রি-ডট ( ) মেনু চাপুন।
২তালিকায় 'Install app' বা 'Add to Home screen' ( ) এ ট্যাপ করুন।
ডাউনলোড সম্পন্ন হলে ফাইলটি ওপেন করে Install চাপুন।
যদি "Install unknown apps" বা "Unknown sources" অনুমতি চায়, তাহলে সেটি Allow করে আবার ইনস্টল করুন।
ইনস্টল শেষ হলে অ্যাপটি খুলে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
অ্যাপের সুবিধা:
সকল লাইভ ক্লাস
রেকর্ডেড ক্লাস
অনলাইন পরীক্ষা
ই-বুক ও নোটিশ
সবকিছু এক জায়গা থেকেই সহজে ব্যবহার করুন!
ব্রাউজারে খুলুন
⚠️ মনে হচ্ছে আপনি এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুক বা অন্য কোনো অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজার থেকে খুলেছেন।
ভালোভাবে কাজ করার জন্য দয়া করে এটি আপনার মূল ব্রাউজারে (যেমন Chrome) খুলুন।
👉 উপরে থাকা ⋮ বা ••• বাটনে চাপ দিন → তারপর “Open in Browser” সিলেক্ট করুন।