<p>বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম মুসলমান কবি হলেন <strong>শাহ মুহম্মদ সগীর</strong>। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:</p>
<ul>
<li>গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ <strong>'ইউসুফ-জুলেখা'</strong> রচনা করেন।</li>
<li>বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনিই প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে স্বীকৃত, যিনি বাংলা ভাষায় কাব্যচর্চা শুরু করেছিলেন।</li>
<li>তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।</li>
</ul>
<p>তাই পরীক্ষার জন্য এই নামটির সাথে <strong>'ইউসুফ-জুলেখা'</strong> কাব্যগ্রন্থের নামটিও মনে রাখলে খুব সহজেই উত্তরটি মনে থাকবে।</p>
<p>বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের কাল বিভাজন অনুযায়ী, মধ্যযুগের সময়কাল হলো <strong>১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ</strong> পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়কালকে মনে রাখার সহজ উপায় হলো:</p>
<ul>
<li><strong>শুরু:</strong> ১২০১ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বাংলা জয়ের মাধ্যমে তুর্কি শাসনের সূচনা হয়, যা মধ্যযুগের সাহিত্যের ভিত্তি তৈরি করে।</li>
<li><strong>শেষ:</strong> ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।</li>
</ul>
<p>অর্থাৎ, সাহিত্যের এই বিশাল সময়সীমাটি হলো: <strong>১২০১ - ১৮০০ খ্রি.</strong>। এই সময়কালটি মূলত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য থেকে শুরু করে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্য পর্যন্ত বিস্তৃত।</p>
<p>বাংলা সাহিত্যে সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রবর্তক হলেন <strong>মাইকেল মধুসূদন দত্ত</strong>। তিনি ইতালীয় কবি পেত্রার্কের সনেট রীতিকে বাংলা সাহিত্যে প্রথম সফলভাবে প্রয়োগ করেন।</p>
<p>বিষয়টি মনে রাখার জন্য কিছু সহজ তথ্য:</p>
<ul>
<li>মধুসূদন দত্ত ১৮৬৬ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ <strong>'চতুর্দশপদী কবিতাবলী'</strong> প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে সনেটের সূচনা করেন।</li>
<li>একটি সনেটে সাধারণত <strong>১৪টি চরণ</strong> থাকে এবং এর একটি নির্দিষ্ট ছন্দ ও মিলবিন্যাস অনুসরণ করা হয়।</li>
<li>বাংলা ভাষায় সনেটের জনক হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য, কারণ তিনিই প্রথম এই বিদেশি কাব্যরীতিকে আমাদের ভাষার সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছিলেন।</li>
</ul>
<p>বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা হলো <strong>গীতকবিতা</strong>। এর কারণ হলো, বাংলা সাহিত্যের বিকাশে কবিতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি এবং এটিই সবচেয়ে প্রাচীন ও শক্তিশালী মাধ্যম।</p>
<ul>
<li><strong>আবেগ ও অনুভূতির প্রকাশ:</strong> গীতকবিতা মানুষের মনের গভীরতম আবেগ ও অনুভূতির সহজ ও সাবলীল প্রকাশ ঘটায়, যা অন্য যেকোনো ধারার চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত।</li>
<li><strong>ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা:</strong> চর্যাপদ থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি বাঁকে গীতকবিতার এক নিরবচ্ছিন্ন ও সমৃদ্ধ ধারা লক্ষ্য করা যায়।</li>
<li><strong>সহজবোধ্যতা:</strong> গীতকবিতার ছন্দ ও সুর পাঠককে খুব দ্রুত আকৃষ্ট করে, ফলে এটি সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সমৃদ্ধ শাখায় পরিণত হয়েছে।</li>
</ul>
<p>বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং জনপ্রিয় ধারা হলো <strong>গীতিকবিতা</strong>। এর কারণগুলো খুব সহজ:</p>
<ul>
<li><strong>আবেগ ও অনুভূতির প্রকাশ:</strong> গীতিকবিতা মানুষের মনের গভীরতম আবেগ, আনন্দ ও বেদনার কথা খুব অল্প কথায় চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে।</li>
<li><strong>সহজবোধ্যতা:</strong> এটি পড়ার সময় পাঠক খুব সহজেই নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন, যা অন্য ধারার তুলনায় অনেক বেশি প্রাণবন্ত।</li>
<li><strong>দীর্ঘ ঐতিহ্য:</strong> চর্যাপদ থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি বাঁকে গীতিকবিতার জয়জয়কার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে জীবনানন্দ দাশ—সবাই এই ধারাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।</li>
</ul>
<p>সহজ কথায়, মানুষের হৃদয়ের কথা সবচেয়ে সুন্দরভাবে প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে গীতিকবিতা বাংলা সাহিত্যে সবসময়ই একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে।</p>
<p>বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি হিসেবে স্বীকৃত হলেন <strong>চন্দ্রাবতী</strong>। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক অনন্য নাম। তাঁর সম্পর্কে কিছু সহজ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:</p>
<ul>
<li>তিনি ষোড়শ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান কবি ছিলেন।</li>
<li>তাঁর সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো <strong>'চন্দ্রাবতী রামায়ণ'</strong>, যা বাংলা সাহিত্যে কোনো নারীর লেখা প্রথম রামায়ণ হিসেবে পরিচিত।</li>
<li>তিনি কিশোরগঞ্জের নীলগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তাঁর বাবার নাম ছিল দ্বিজ বংশীদাস, যিনি নিজেও একজন বিখ্যাত মনসামঙ্গলের কবি ছিলেন।</li>
</ul>
<p>সহজ কথায়, মধ্যযুগের পুরুষশাসিত সাহিত্য অঙ্গনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম নারী কবি হিসেবে অমর হয়ে আছেন।</p>
<p>বাংলাদেশে ‘গ্রাম থিয়েটার’ আন্দোলনের জনক বা প্রবর্তক হলেন <strong>সেলিম আল দীন</strong>। নাটককে শহরের গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন।</p>
<p>সহজভাবে মনে রাখার উপায়:</p>
<ul>
<li><strong>সেলিম আল দীন</strong> ছিলেন বাংলা নাটকের একজন দিকপাল, যিনি মনে করতেন থিয়েটার কেবল মঞ্চে নয়, বরং মাটির কাছাকাছি হওয়া উচিত।</li>
<li>১৯৮২ সালে তিনি ‘গ্রাম থিয়েটার’ আন্দোলনের সূচনা করেন, যা বাংলাদেশের লোকজ নাট্যচর্চাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।</li>
</ul>
<p>তাই নাট্যচর্চায় গ্রামকেন্দ্রিক এই বিপ্লবের কথা শুনলেই আমাদের মাথায় সবার আগে <strong>সেলিম আল দীন</strong>-এর নামটাই আসা উচিত।</p>
<p>সঠিক উত্তর হলো <strong>বাংলা একাডেমি</strong>। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ বাংলাদেশে বাংলা ভাষার মান নির্ধারণ, গবেষণা এবং বানানরীতি প্রমিতকরণের মূল দায়িত্বটি বাংলা একাডেমিই পালন করে থাকে।</p>
<ul>
<li>১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি প্রথম প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করে।</li>
<li>পরবর্তীতে ভাষার শুদ্ধতা বজায় রাখতে এবং বানান নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে তারা এই নিয়মগুলো নিয়মিত পরিমার্জন ও আপডেট করে।</li>
<li>তাই বাংলা বানানের যেকোনো প্রমিত নিয়ম বা নির্দেশনার জন্য বাংলা একাডেমিই হলো একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান।</li>
</ul>
৫২৪৫
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে কোন বিষয়টি প্রধানভাবে আছে?
<p>সঠিক উত্তর হলো <strong>বাংলার প্রকৃতির কথা</strong>। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা' মূলত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি অসাধারণ সৃষ্টি, যেখানে তিনি বাংলার রূপ-সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন।</p>
<p>কেন এটি সঠিক, তা খুব সহজে বুঝে নিন:</p>
<ul>
<li>সঙ্গীতটির প্রতিটি লাইনে বাংলার আকাশ, বাতাস, মাঠ, বন এবং নদীর যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা মূলত প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।</li>
<li>এখানে বাংলার মাটির ঘ্রাণ, ধানের ক্ষেত এবং প্রকৃতির স্নিগ্ধ রূপকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের দেশকে অনন্য করে তুলেছে।</li>
<li>পুরো গানটি জুড়ে বাংলার প্রকৃতির যে জীবন্ত ছবি ফুটে উঠেছে, তা অন্য কোনো বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রধান।</li>
</ul>
৫২৪৬
বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ -এর পরিচালক কে?
<p>বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ -এর পরিচালক হলেন <strong>চাষী নজরুল ইসলাম</strong>।</p>
<p>বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:</p>
<ul>
<li>বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হলো <strong>‘ওরা ১১ জন’</strong>।</li>
<li>এই ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭২ সালে।</li>
<li>চলচ্চিত্রটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রখ্যাত নির্মাতা <strong>চাষী নজরুল ইসলাম</strong>, যিনি বাংলা চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।</li>
</ul>
<p>বাংলাদেশের রণসঙ্গীত 'চল্ চল্ চল্' কাজী নজরুল ইসলামের <strong>সন্ধ্যা</strong> কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। অনেকেই হয়তো ভাবেন এটি বিদ্রোহী কোনো কাব্যগ্রন্থের অংশ, কিন্তু আসলে এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত <strong>সন্ধ্যা</strong> কাব্যগ্রন্থের 'চল্ চল্ চল্' শিরোনামে সংকলিত হয়েছিল।</p>
<ul>
<li><strong>কাব্যগ্রন্থের নাম:</strong> সন্ধ্যা</li>
<li><strong>প্রকাশকাল:</strong> ১৯২৯ সাল</li>
<li><strong>মূল তথ্য:</strong> জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা এই গানটি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।</li>
</ul>
<p>সহজ কথায়, রণসঙ্গীতের উৎস খুঁজলে আমাদের নজর দিতে হবে <strong>সন্ধ্যা</strong> কাব্যগ্রন্থের দিকে। এটি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ রণসঙ্গীতের তেজস্বী সুর আর কাব্যগ্রন্থের নামটির মধ্যে এক দারুণ বৈপরীত্য রয়েছে!</p>
<p>বাংলাদেশের সাহিত্যে শামসুর রাহমান মূলত একজন <strong>কবি</strong> হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তাকে আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান পুরুষ বলা হয়।</p>
<ul>
<li>শামসুর রাহমান তার অসাধারণ কাব্যশৈলী এবং শব্দের জাদুতে বাংলা কবিতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।</li>
<li>তার লেখা <strong>‘বন্দী শিবির থেকে’</strong>, <strong>‘নিজ বাসভূমে’</strong> বা <strong>‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’</strong>-এর মতো কালজয়ী কাব্যগ্রন্থগুলো তাকে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের কাতারে বসিয়েছে।</li>
<li>যদিও তিনি সাংবাদিকতা ও গদ্যচর্চায় যুক্ত ছিলেন, কিন্তু তার মূল পরিচয় এবং সৃজনশীলতার প্রধান ক্ষেত্র হলো <strong>কবিতা</strong>।</li>
</ul>
MCQ পরীক্ষা সেটিংস
বাংলা
eProstuti
সহজ ও দ্রুত ক্লাস করতে অ্যাপটি ইনস্টল করুন
iPhone / iPad এ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Safari ব্রাউজারের নিচে থাকা Share ( ) বাটনে চাপ দিন।
২নিচের দিকে স্ক্রোল করে 'Add to Home Screen' ( ) নির্বাচন করুন।
৩উপরে ডানে থাকা 'Add' বাটনে ট্যাপ করুন।
Android এ অ্যাপ ইনস্টল করুন
eProstuti
১Chrome ব্রাউজারের উপরে ডানে থাকা থ্রি-ডট ( ) মেনু চাপুন।
২তালিকায় 'Install app' বা 'Add to Home screen' ( ) এ ট্যাপ করুন।
ডাউনলোড সম্পন্ন হলে ফাইলটি ওপেন করে Install চাপুন।
যদি "Install unknown apps" বা "Unknown sources" অনুমতি চায়, তাহলে সেটি Allow করে আবার ইনস্টল করুন।
ইনস্টল শেষ হলে অ্যাপটি খুলে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
অ্যাপের সুবিধা:
সকল লাইভ ক্লাস
রেকর্ডেড ক্লাস
অনলাইন পরীক্ষা
ই-বুক ও নোটিশ
সবকিছু এক জায়গা থেকেই সহজে ব্যবহার করুন!
ব্রাউজারে খুলুন
⚠️ মনে হচ্ছে আপনি এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুক বা অন্য কোনো অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজার থেকে খুলেছেন।
ভালোভাবে কাজ করার জন্য দয়া করে এটি আপনার মূল ব্রাউজারে (যেমন Chrome) খুলুন।
👉 উপরে থাকা ⋮ বা ••• বাটনে চাপ দিন → তারপর “Open in Browser” সিলেক্ট করুন।